সারাদেশ

ডবলমুরিংয়ে মধ্যরাতের পুলিশি তল্লাশি, সাংবাদিককে হয়রানি

সিএমপির ডবলমুরিং থানা পুলিশের চৌমুহনী মোড়ের তল্লাশিতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সিপ্লাস টিভির শাহরুখ সায়েল নামের এক সংবাদকর্মী।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ দিকে ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী মোড়ে টহল পুলিশের হেনস্তার শিকার হন এই সংবাদকর্মী।

শাহরুখ সায়েল বলেন, কর্মক্ষেত্র থেকে নিজগৃহে ফেরার পথে ডবলমুরিং থানাস্থ চৌমুহনী মোড়ে মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেয় থানা পুলিশের এক কনস্টেবল। মোটরসাইকেল থামানোর পর কনস্টেবল গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে দূরে বসে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মানিকের সাথে দেখা করতে বলে। আমি মানিকের কাছে গেলে মানিক আমাকে বলে তুই ঐদিকে দাঁড়া। তোর নাম কি? তোর বাপের নাম কি? তোর বাড়ি কই? তুই কি করছ? তোর এলাকায় এমপি কে? বিভিন্ন ধরনের অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকে। এমপির নাম বলায় সে আমাকে প্রশ্ন করে তুই কি এমপির লোক এতো রাতে গাড়ি নিয়ে ঘুরস কেন? তোর গাড়ি এখন আমি আটক করবো। তোর গাড়ির কাগজ দে।

গাড়ির সকল কাগজ তাকে দেওয়ার পরও কোনভাবে আটকাতে না পেরে কনস্টেবলকে জিজ্ঞেস করে আমার হেলমেট ছিল কিনা৷ এরপর কনস্টেবল হেলমেট ছিল জানায়।

একপর্যায়ে ইশারায় কনস্টেবল আমাকে একটু সাইডে ডেকে নিয়ে বলেন ‘স্যারের জন্য কিছু বখশিস দিয়া দেন।’ আমি বখশিশ দিতে না চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে তিনি আমাকে বলতে থাকেন তুই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়েছিস, এদিক সেদিকে ঘোরাঘুরি করছিস। তোরে থামতে বলার পরেও তুই থামতে চাসনি। কেন এধরণের হয়রানি করছেন প্রশ্ন করলে সে বলে এগুলো কোনো হয়রানি না এটা আমার পেশাগত দায়িত্ব।

সংবাদকর্মী পরিচয় দেওয়া ও পরিচয় পত্র দেখানোর পরও সে মুভমেন্ট পাস খুঁজতে শুরু করে এবং গাড়ি আটকের কথা বলে। বললাম সংবাদকর্মীদের জন্য মুভমেন্ট পাস প্রযোজ্য নয়।

এস আই মানিক বলেন, ‘কিসের সাংবাদিক! কিসের সিপ্লাস! প্রেস ক্লাবের নিবন্ধন আছে? এমন পরিস্থিতিতে আমি মুঠোফোনে ডবলমুরিং থানার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহসীনের সাথে যোগাযোগ করবো বললে সে বলে কার সাথে যোগাযোগ করবি কর। পরবর্তীতে ওসি মোহসীনকে বিষয়টি জানানো হলে তার নির্দেশে ছেড়ে দেয়। পেশাগত দায়িত্বে বের হওয়া সংবাদকর্মীরা এর আগেও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শকের এমন অপেশাদার আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি পশ্চিম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। আমি তাকে সতর্ক করে দিবো পরবর্তীতে যেন এধরণের ঘটনা না ঘটে।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৯ মার্চ (সোমবার) মধ্যরাতে ফিল্মি কায়দায় দেয়াল টপকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা জাবেদ নজরুল ইসলামের বাসায় মধ্যযুগীয় কায়দায় তাণ্ডব চালায় ডবলমুরিং থানা পুলিশ। পুলিশ জাবেদ নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও সাবেক নারী কাউন্সিলর ফারহানা জাবেদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এসময় আটক করে নিয়ে যায় জাবেদ নজরুলের ছোট ভাই সাইদুল ইসলামকে। মধ্যরাতে আটক করে ১২ ঘণ্টা থানায় রাখে ডবলমুরিং থানা পুলিশ পরবর্তীতে ‘সরল বিশ্বাসে ভুল’ বলে ছেড়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *