অন্যান্য

ফটিকছড়ির ১৫ কেজি ওজনের জাপানি মুলার দেশজুড়ে খ্যাতি

প্রায় ১৫ কেজি ওজনের ফটিকছড়ির জাপানি মুলার দেশজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে।
উপজেলার চাষারা ২৩ জানুয়ারি (১০ মাঘ) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের অধ্যাত্নিক সাধক গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হযরত কেবলার বার্ষিক ওরশে মাঘের মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মুলাকে বিক্রি উপযোগী করেন। চাষারা কিংবা ব্যবসায়িরা ১০ মাঘ হতে ১১ মাঘ সকাল পর্যন্ত মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে মুলা বিক্রি করেন। ওরশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের কাছে ওই মুলা বেশ জনপ্রিয়।

ফটিকছড়ি উপজেলার বুকচিরে প্রবাহিত বহমান হলদা নদী, ধুরুং খাল ও সত্ত্বা খালের চরে ব্যাপক জায়গা জুড়ে চাষারা ওই মুলার চাষ করেন। মূলত মুলার ৯০ ভাগ উৎপাদনই আসে চরাঞ্চল হতে। আকারে ওই মুলা সবের্বাচ্চ লম্বায় প্রায় ৩ ফুট এবং ওজনে ১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। খেতেও অনেক সুস্বাধু।

চলতি বছর ফটিকছড়ি উপজেলায় ৪শ’ হেক্টর জমিতে মুলার চাষ হয়েছে। অন্যান্য মুলার চেয়ে ফটিকছড়িতে জাপানি হাইব্রিট মুলার চাষ অনেক বেশি হয় উৎপাদনও অনেক ভাল।

পলি মাটি মুলার জন্য ভাল। বপনের আড়াই মাসের মধ্যে ওই মুলা বিক্রির উপযোগী হয়। তবে, ওজনে বিভিন্ন আকারের হয়। সব মুলার ওজন ১৫ কেজি হয় না। তবে সর্ব্বোচ্চ ওজন ১৫ কেজি।

উপজেলার সুন্দর ইউনিয়নের কৃষক আহমদ হোসেন বলেন, প্রতিবছরই আমি হালদার চরে জাপানি মুলার চাষ করি। প্রতিবছর মাঘের মেলার কথা মাথায় রেখে মুলা উৎপাদন করি। দীর্ঘদেহের মূলা উৎপাদন করে নিজেরও ভাল লাগে। স্থানীয়দের চেয়ে অন্যজেলার মানুষের কাছে ওই মুলার চাহিদা বেশি বলে আমরা ব্যবসার জন্য মাঘের মেলাকেই টার্গেট করি।

উপজেলার সুয়াবিল ইউনিয়নের তপন দাশ জানান, এই মূলা কেজির মাপে বিক্রি হয়না। ওজন বুঝে অনুমান করে বিক্রি হয়। আমি হালদার চরে জাপানি মুলার চাষ করি। মাঘের মেলায় বিক্রি করব এমন উদ্দেশ্যে নিয়ে মুলা উৎপাদনে মনোযোগী হই। প্রতিবছরে মাঘের মেলাতে মুলা বিক্রি করি। আমি ১২ কেজি ওজনের একটা ৩শ’ টাকায় বিক্রি করেছি।

জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসর লিটন দেবনাথ জানান, আমি দেশের অন্য কোথাও এত ওজনের জাপানি মুলা দেখিনি। মূলত পলিমাটিতে এর উৎপাদন ভাল হয় বলে চাষারা চরাঞ্চলে জাপানি মুলার চাষ করে থাকেন। এখানে এই মুলা ওজনে সবের্বাচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.