স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয়? কিভাবে হয় জানা জরুরি?

মেয়েদের স্বপ্নদোষ হয়? কিভাবে হয় জানা জরুরি?

স্বপ্নদোষ হল ঘুমন্ত দশায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থাৎ কোন সক্রিয় কর্মকান্ড ব্যতিরেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাগমোচন ঘটা, যেখানে পুরুষ বা ছেলেদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত ঘটে এবং মহিলা বা মেয়েদের ক্ষেত্রে শুধু রাগমোচন বা সিক্ততা বা উভয় ঘটে থাকে। স্বপ্নদোষ বয়ঃসন্ধি বা উঠতি তারুণ্যে সবচেয়ে বেশী ঘটে থাকে, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল পার হবার অনেক পরেও এটি ঘটতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে যোনিপথ পিচ্ছিল থাকা সকল ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষের বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে না।পুরুষের ঘুমের মধ্যে বীর্যপাতের ঘটনা বা স্বপ্নদোসের মত মহিলাদেরও ঘুমের মধ্যে চরম পুলক লাভের অভিজ্ঞতা ঘটতে পারে। মেয়েদের স্বপ্নদোষের মাত্রা বেড়ে যায় যদি তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় টেস্টোসটেরনসমৃদ্ধ ওষুধ গ্রহণ করেন। বয়ঃসন্ধিকালে অনেক মেয়েরাই প্রথম ঘুমের ভিতরে শারীরিক পুলক অনুভব করে ।

আবার অনেকেই প্রথম শারীরিক শিহরণ গ্রহণ করে আঙ্গুল পরিচলনের মাধ্যমে।মহিলাদের ক্ষেত্রে কিনসে দেখেছেন, ৫ হাজার ৬২৮ জন মহিলার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মহিলা তাদের ৪৫ বছর বয়সের সময় কমপক্ষে একবার স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। ওই সব মহিলা কিনসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন।এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ মহিলা তাদের ২১ বছর বয়সের সময় স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। কেউ কেউ ১৩ বছর বয়সে পড়লে এ অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

যেসব মহিলা ঘুমের মধ্যে চরম পুলক লাভ করেন, সাধারণত তাদের বছরে কয়েকবার এটা হয়। মহিলাদের রতিমোচন হিসেবে ঘুমের মধ্যে যৌন উত্তেজনা জাগে যার মাধ্যমে তারা রতিমোচনের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে তাদের স্বপ্নদোষ নির্ণয় করা সহজ, কারণ হলো বীর্য। মহিলাদের যোনিপথে নিঃসরণ রাগ মোচন ছাড়াই যৌন উত্তেজনার চিহ্ন হতে পারে।

মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে গোসলের বিধানঃ

স্বপ্নদোষে কামোত্তেজনাসহ যদি মহিলার বীর্য বের হয়, তবে তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে। এ বিষয়ে ইজমা রয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে-

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: قَالَ عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ الْأَنْصَارِيَّةَ هِيَ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ أَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ إِذَا رَأَتْ فِي النَّوْمِ مَا يَرَى الرَّجُلُ أَتَغْتَسِلُ أَمْ لَا؟ قَالَتْ عَائِشَةُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ. فَلْتَغْتَسِلْ إِذَا وَجَدَتِ الْمَاءَ». قَالَتْ عَائِشَةُ: فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهَا، فَقُلْتُ: أُفٍّ لَكِ وَهَلْ تَرَى ذَلِكَ الْمَرْأَةُ؟ فَأَقْبَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «تَرِبَتْ يَمِينُكِ يَا عَائِشَةُ، وَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ؟

অনুবাদ: হযরত আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আনাস ইবন মালেক রাযি.-এর মাতা উম্মে সুলাইম রাযি. যিনি আনসারী মহিলা ছিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না! এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? কোনো মহিলার পুরুষের মতো স্বপ্নদোষ হলে সে গোসল করবে কি না?

আয়েশা রাযি. বলেন, জবাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: হ্যাঁ তাকে গোসল করতে হবে, যদি সে বীর্য-এর চিহ্ন দেখতে পায়। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি উম্মে সুলাইম রাযি.-কে লক্ষ্য করে বলি, আপনার জন্য দুঃখ হয়। মহিলারা কি এমন দেখে থাকে (অর্থাৎ তাদের কি স্বপ্নদোষ হয়)? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে এসে বলেন, হে আয়েশা! তোমার ডান হাত ধূলায় ধূসরিত হোক। স্ত্রীলোকদের বীর্য না থাকলে সন্তান কিভাবে মায়ের আকৃতি পায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published.