দেশজুড়ে

সুখে থাক তেলবাজ হাইব্রিডরা, মরে যাক ত্যাগিরা

সুখে থাক তেলবাজ হাইব্রিডরা, মরে যাক ত্যাগিরাঃ সাজ্জাদ হোসেন চিশতী।

সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চায়, সত্যি বলতে কি বাহ্যিক রুপে সবাই এখন আওয়ামী লীগ।১৫ আগষ্টের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ছিল ১% ১/১১ পর ৩% আর এখন ৯৯.৯৯।কে আওয়ামী লীগ তা নিয়ে এখন রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। বর্তমান ও সাবেক আমলা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী,সাংবাদিক,খেলোয়াড় কিংবা প্রকৌশলী কোন শ্রেনী পেশা বাদ নাই,  সবাই এখন নিজেদের গায়ে আওয়ামী লীগের ‘তকমা’ লাগাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। দেখা গেছে ১৫ আগষ্ট,১৯৯৬, ওয়ান-ইলেভেনসহ দলের দুঃসময়ে যারা আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেছেন, তারাই এখন সুবিধা লুটতে আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা এদের নাম দিয়েছেন ‘হাইব্রিড’। তৃণমূল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যারা নিবেদিতপ্রাণ বলে পরিচিত ছিলেন, দলের দুর্দিনে যারা ত্যাগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন, দল ক্ষমতায় থাকার পরও তাদের অনেকের এখন দুর্দিন চলছে।

সুযোগসন্ধানী ‘কাউয়া’ ও ‘হাইব্রিড’ মার্কা নেতাদের দাপটে এরা কোণঠাসা। ত্যাগীদের প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি-মন্ত্রীরাও মুখ ফিরিয়ে রাখেন। তাদের কাছে ভিড়তে দেন না। তাদের ঘিরে রাখেন নব্য সুযোগসন্ধানী নেতারা। এতে দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত নেতারা ত্যাগের বিনিময়ে পাচ্ছেন বঞ্চনা-লাঞ্ছনা। অথচ নব্য আওয়ামী লীগরাই এখন লুটেপুটে খাচ্ছে। পাপিয়া সাবরিনা- আরিফ, রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ, আর ওসি প্রদীপকে নিয়ে দেশে এখন আলোচনা সমালচনা বইছে। অথচ এদের দলের জন্য পূর্বে কোন ত্যাগ তিতিক্ষার ইতিহাস নেই। অথচ ঠিকই তারা তাদের জায়গা করে নিয়ে অন্যায় ভাবে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অডেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে। ওসি প্রদীপের অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা বানানোর এখন হদিস মিলছে। পাপিয়াদের মত, শাহেদদের মত লোকের অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার হদিস মিলছে। এইরকম অজস্র নব্য আওয়ামীলীগ আছে যারা দলের জন্য কোন অবদান না রেখে নিজেদেরকে এখন অনেক বড় ত্যাগী আওয়ামীলীগ দাবী করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় তৈরি করছে।

দুঃসময়ে যারা আন্দোলন, সংগ্রামে, শ্লোগানে, মিছিলে রাজপথ কাঁপিয়েছিল, তাদের অনেকের অবস্থাই ভয়াবহ করুণ। ক্ষমতার সরকারে দুঃসময়ের নির্যাতিত অনেক নেত্রী বা কর্মীর জায়গা হয়নি।

বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নেতা নেত্রীরা নিজেদের উন্নয়ন নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত যে দুঃসময়ের সহযাত্রীদের খবর রাখার এতো সময় এখন তাঁদের নেই । ক’দিন আগে শুনলাম যুব মহিলালীগের ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ঝুমা প্রচণ্ড অর্থকষ্টে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে । যুবলীগ নেত্রী   আয়েশা মানবেতর জীবন যাপন করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে। পযাপ্ত চিকিৎসা পায়নি।

অথচ তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পেটোয়া বাহিনী পুলিশের হিংস্রতার শিকার হয়ে রাজপথে লাঞ্ছিত হয়েছিলো এই আয়শা। বার বার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন আয়শা। তবুও রাজপথ থেকে মোটেও সরাতে পারেনি পুলিশ এই নারী কর্মীকে। সেই আয়শার পাশে দাঁড়ানোরও কেউ ছিলো না।

সেই সময়ে এক হরতালে পুলিশ কর্তৃক আয়শার বস্ত্র হরণের ছবি সবার হৃদয়কে আপ্লুত করে বেদনা জাগিয়েছিল। মানুষকে জোট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করেছিল। সুসময়ের কোকিলরা নয় দুঃসময়ের এই আয়শারাই আপনাদের আপন । আজ আয়শার দুঃসময়ে মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে পারেনি কেউ। কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। না ফেরার দেশে চলে গেলেন আ.লীগের দুঃসময়ের সেই সাহসী নেত্রী ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুব মহিলা লীগের আয়শা!

আওয়ামীলীগ একটানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকলেও ভাগ্য বদলেনি এসকল নির্যাতিত কর্মীদের। কারণ তারা অর্থকে নয় দলকে ভালোবাসতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আয়েশারা তাদের ভাগ্য বদলাতে না পারলেও বিশাল পরিবর্তন আর পদ-পদবীতে ভুষিত হয়েছেন নব্য অতিথিরা। নবাগতরা দলে প্রবেশের পরেই রাতারাতি অল্প সময়ে  মধ্যে কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন, সেই সাথে বনে গেছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। কিন্তু অর্থ না থাকায় চিকিৎসার অভাবে এভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে লাল সবুজের বাংলাদেশকে শেষ বারের মতো চিরদিনের জন্য বিদায় জানালেন আয়শা বেগম।

তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে এখন আলোচনার তুমুল ঝড়। না খেয়ে দিন যাপন, চিকিৎসার অভাবে এমন করুণ মৃত্যু এখন প্রশ্ন জেগেছে সমাজের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে।

কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘জিকে শামীম, ওসি প্রদীপ, পাপিয়া, সাহেদ করীমসহ অসংখ্য হাইব্রিডরা হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আর সামান্য চিকিৎসার জন্য এভাবে মরতে হয়েছে একজন দলের ত্যাগী কর্মীর? রাজনীতি এখন সমাজের কাছে বড় প্রশ্নবিদ্ধ!

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, আয়শা আপার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা তাকে একটু দেখতেও গেল না! এবং দুই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো যোগ্যতা কি ছিল না! সবাই তো নানা কর্মে ব্যস্ত, শুধু মাটিতে পড়ে আছে আজ লাশ যারা দলকে ক্ষমতায় এনেছিল!

মৃতকালে পরিবারের কাছে আয়শার শেষ কথা, দল ক্ষমতায় কিছুই করিনি। এমনকি কেউ একটু দেখতেও আসেনি। অনাহারে দিন যাপন করেছি। অনেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আর আমরা জীবন দিয়ে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভালোবাসছি বিধায় চুরি বাটপারি করিনি। সততার সাথে রাজনীতি করেছি। রাজনীতি আজ তুমি বড়ই নিষ্ঠুর! ওরা ভাল থাকুক আমরা অপরাধী তাই একদিন চলে যাবো সৃষ্টিকর্তার ডাকে! প্রিয় দেশবাসী আমরা রাজনীতি করেছি মানুষের জন্য, সবার কাছে অনুরোধ থাকবে আমার মৃত্যু হলে একটু সন্তানদেরকে কেউ ভালোবেসে পড়া লেখা করিয়ে মানুষ করবেন। এইটুকু জাতির কাছে রেখে গেলাম, আমার মতো ওদের যেন মৃত্যু না হয়, আমার সন্তান একবেলা ভাত আর একটু মানুষ হলে আত্মায় শান্তি পাবো।

পাপিয়াদের মতো নষ্টদের জন্য সবার সহযোগিতা শেল্টার জুটলেও আজকে আয়েশাদের মতো এই ত্যাগিদের ভাগ্যে খাবার ও চিকিৎসা জুটেনা, অনাহারে মৃত্যুবরণ করে তারা।  আয়েশার খবর রাখার সুযোগ দলের নেতা, মন্ত্রী এমপিদের নেই! রাজনীতি কতো নিষ্ঠুর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেউ যেমন পাপিয়াদের অপরাধের কথা বলেননা, তেমনি আয়েশার জীবনের করুন অবস্থার বেদনার কাহিনীও জানান না। দেশের যেখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায় দেখেছেন সেখানেই ব্যবস্থা নিয়েছে। করোনা কালে যেখানেই বেশি সমস্যা দেখছেন সেখানেই সহযোগিতা করছেন। করোনা যুদ্ধে একা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কেন ভাই সবকিছু কেউ কেন আজ এই একজনকেই দেখতে হবে? আপনাদের ভাগ কমে যাবে বলে আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগের ত্যাগি নেতারা হারিয়ে যাচ্ছে।

দুঃসময়ে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ কাঁপিয়েছিল, তাদের অনেকের অবস্থাই ভয়াবহ করুণ। ক্ষমতার সরকারে দুঃসময়ের নির্যাতিত অনেক নেত্রী বা কর্মীর জায়গা হয়নি।

এবার একটু সাংবাদিক কাজলের কথায় আসি। সাংবাদিক কাজল এমন এক ব্যক্তি যিনি ৯০ এর গণঅভূত্থান, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে করা গণআদালত-এ তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ওয়ান ইলেভেনে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুর্লভ সব ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ সেই সাংবাদিক কাজলকে হাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে গ্রেফতার করা হয়। আর সাবরিনা, ওসি প্রদীপদের মত মাফিয়াদের এমন ভাবে গ্রেফতার করা হয় যেন মন্ত্রীর প্রটোগল দিচ্ছে।

আজকের ত্যাগি নামধারী নেতা হচ্ছে হাইব্রিডরা।  কারণ ক্ষমতায় থাকতে তাদের কোন মিছিল মিটিং হরতালের প্রয়োজন নেই, জেল জুলুম আর নিপীড়নের ভয় নেই। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর নিশ্চয়তায় সেজে গুঁজে এসি রুমে বসে কেবলই বুলি কপচানো, আনন্দ আর ধান্দা, বড় বড় পদ পদবী সহ নিজেদের আখের গোছানো। আজ তাদের সম্পদেরও হিসেব করে বের করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। অথচ দলের দূঃসময়ে অবদান রাখা ঢাকা দক্ষিন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট জেলের ভিতরে মরছে। হ্যাঁ মানছি সম্রাট ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িত ছিলো । কিন্ত আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই সেই সম্রাট আওয়ামীলীগের দু:সময়ে আন্দোলন সংগ্রামের সাহসী ও নিবেদিত নেতা ছিলেন যাকে ঘিরে ঢাকায় যুবলীগের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়। শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে স্বীকৃতিও পান শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে। দুঃসময়ে আজকের বহুল আলোচিত সম্রাট যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে তিনি।

আওয়ামীলীগের  যে কোনো কর্মসূচি সফল করতে অগ্রণী ভূমিকাও রেখেছেন তিনি। এই সেই সম্রাট যার কারণে কাকরাইলে তার অফিসের নিচে হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ আহার পেতো। কিন্তু আজ জীবন খেলায় তার পাশে কেউ নেই। ক্যাসিনোতে কোন সাধারণ মানুষ যায় না। সম্রাট তাদের থেকে অর্থ কেড়ে নিয়ে দলের জন্য কাজ করছে এবং করে যাচ্ছিল। ঢাকা দক্ষিন যুবলীগকে সুসংগঠিত করেছে। অথচ এই নব্য আওয়ামীলীগরা কি অবদান রেখেছিলো দলের জন্য?

ধানমণ্ডি ৩ নম্বরের পার্টি অফিস, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বঙ্গভবন থেকে গণভবন, নামী-দামী পাঁচ তারকা হোটেল আর নাম করা ক্লাবের বড় বড় রাজনৈতিক আড্ডা কিংবা আলোচনায় সর্বত্র কেবলই যুব মহিলা লীগের একটি মেকাপ মারা অংশ ও সুবিধাবাদী নায়িকার ভীড়, সুন্দরীদের মেলা । এই ভিড় ঠেলে দুঃসময়ের পোড় খাওয়া চেহারার সাধারণ নেত্রী বা কর্মীরা প্রবেশ করা সাধ্য কি !

ক্ষমতার সরকারে রূপ লাবণ্য আর গ্লেমারের যতটা কদর শান্ত আলুথালু মলিন চেহারাগুলো ততোটাই বিরক্তিকর, অপাংক্তেয় আর বেমানান।

এই দেশে পাপিয়ারা বড় বড় পদ পায় আর আয়েশাদের মত ত্যাগী নেত্রীরা ওষুধ খেতে পারেনা অর্থের অভাবে মারা যায়। এদেশে আইব্রিডরা কোটি কোটি টাকা দিয়ে আওয়ামীলীগের পদ কিনে , নমিনেশন কিনে। আর ত্যাগিরা, প্রকৃত আওয়ামী লীগ কর্মীরা অর্থের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। তাইতো ভালো জায়গায় আজকের এসব দূর্নিতিবাজরা বসছে। যেমন এমপি পাপুলের হাজার হাজার কোটি টাকা আওয়ামী লীগের দু:সময়ে কোন কাজে এসেছে? দলের দু:সময়ে কোথাই ছিলো সে? অথচ কোটি টাকা খরচ করে নমিনেশন কিনে সে এখন সংসদ সদস্য। এদিকে কুয়েতে মানবপাচার মামলায় সে এখন জেলে ঘাড়ি টানছে। এতে যে আমাদের দেশের মা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *