স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

গ্যাস্ট্রিক দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

গ্যাস্ট্রিক দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

গ্যাস্ট্রিক বর্তমানে মানুষের মাঝে এক আতঙ্কিত রোগ হিসেবে দেখা যায়। কম বেশি সবার মাঝেই এখন গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দেখা যায়। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালে ৫০ হাজার গ্যাস্ট্রিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। গ্যাস্ট্রিকের প্রধান কারণ মূলত খাবারের বদহজম। গ্যাস্ট্রিকের ফলে মানুষ নানান রোগে ভুগছে। গ্যাস্ট্রিকের কারণে সাধারনত ডায়রিয়া, বমি ও পেটে ব্যাথা হয়ে থাকে। এমনকি জ্বর, শরীর দুর্বল এবং পানিশূন্যতা অনুভব হয়।

বর্তমানে দেখা যায় অন্যান্য ওষুধ এর থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ (যেমন: পোটন পাম্প ইনহিবিটর, পিপিআই, শ্রেণীর ওষুদ) বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে, ওষুধ খাওয়ার চেয়ে খাবার ও জীবনযাপনের দিকে নজর দিলে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ভাজাপোড়া, বাহিরের খাবার, দাওয়াত-পার্টিতে মশলাযু্ক্ত খাবার ইত্যাদি খাবার গুলো খাওয়া কামাতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কি কি করা যায় এবং গ্যাস্ট্রিক দূর করার প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো :

যেসব খাবার গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সহায়ক :

যেসব-খাবার-গ্যাস্ট্রিক-দূর-করতে-সহায়ক

১. ডাবের পানি :

ডাবের পানি খুবই উপযোগী। ডাবের পানি খেলে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই যদি সম্ভব হয় তাহলে চেষ্টা করবেন প্রতিদিন ডাবের পানি খাওয়ার। তাহলে থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

২. রসুন :

অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য রসুনের উপকারিতার কোন বিকল্প নেই। এক কোয়া রসুন খাওয়ার ফলে আপনার গ্যাসীয় এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা স্বাভাবিক হতে পারে। তাই চেষ্টা করবেন প্রতিদিন এক কোস রসুন খেতে।

৩. পুদিনা পাতা :

ফুটন্ত এক গ্লাস পানিতে কয়েকটি পুদিনা পাতা, রস করে খেতে পারেন। এতে আপনার বমির ভাব সহ পেটের সমস্যা দূর হবে।

৪. শসা :

পেট ঠান্ডা রাখার জন্য সবচাইতে কার্যকর খাবার হচ্ছে শসা। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যা পেটে গ্যাসের পরিমাণ কমায়। এছাড়াও এটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

৫. দই :

দই আমাদের পেটে হজম শক্তি বাড়ায়। দইয়ের মধ্যে রয়েছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা খাবারকে দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। এটি খেলে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে গ্যাস হওয়ার প্রবণতা কমে।

৬. পেঁপে :

হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য পেঁপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এতে রয়েছে পেপেইন নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। পেঁপে কাঁচা-পাকা দু’ভাবে খাওয়া যায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার চেষ্টা করবেন এতে আপনার গ্যাসের সমস্যা কম হবে।

৭. আদা :

আদায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা আপনার পেটে গ্যাসের সমস্যা, হজমে সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত সমাধানে করতে সক্ষম হয়। কাঁচা আদা কুচি করে লবণ দিয়ে খান পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাসের সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।

৮. কলা :

কাচা কলা শরীরের দুষিত পদার্থ দূর কারতে সাহায্য কারে। কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে যারা লবণ বেখি খান, তাদের গ্যাস ও হজমে সমস্যা হতে পারে তা খুব দ্রুত সময়ে মধ্যে সমাধান করতে পারে।

৯. পানি :

বলা হয় যে পানির অপর নাম জীবন। পানির বহু গুণ রয়েছে । গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর কারতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস পানি পান করবেন, এতে আপনার সারাদিনের ক্লান্তি দূর করবে আর গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা হতে রক্ষা কারবে। পানি হজম শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী তাছাড়া পানি পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সক্ষম করে।

১০. অ্যালোভেরা :

অ্যালোভেরায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ যা একদিকে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় অন্যদিকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দূর করে। শুধু তাই নয় অ্যালোভেরার উপাদানসমূহ আমাদের পেটে তৈরি হওয়া অ্যাসিডের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্যাস্ট্রিক দূর করুন সুষ্ঠ জীবনধারার মাধ্যমে :

গ্যাস্ট্রিক-দূর-করুন-সুষ্ঠ-জীবনধারার-মাধ্যমে

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে আপনাকে খাবারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণত ভাজাপোড়া সহ বাজারের তেল জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে। ভাত বা নাস্তা খাওয়ার পরপরই পানি খাওয়ার অভ্যাস টি কমিয়ে ফেলুন। ভাত খাওয়া ৩০ মিনিট পর পানি খেতে হবে, এতে পেটে গ্যাস জমবে না।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় থেকে রক্ষা পেতে যে ৩টি খাবার এড়িয়ে চলবেন:

গ্যাস্ট্রিকের-সমস্যায়-থেকে-রক্ষা-পেতে-যে-৩টি-খাবার-এড়িয়ে-চলবেন

১. মুলা :

শীতের সময় এই সবজি বেশি দেখা যায়। কিন্তু আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাহলে আপনি মুলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। পেট ফুলে যাওয়া, পেটে ব্যথা করা, খাবারের রুচি কমে যাওয়া, সামান্য কিছু খেলেই পেট ভরে যাওয়া, ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মুলার তরকারি কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং যদি সম্ভব হয় তাহলে মুলার তরকারি খাওয়ার পরে জিরা ভেজানো পানি অথবা পুদিনা পাতার রস খেতে পারেন।

২. ছোলা :

ছোলার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা আছে। তবে এটি যে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা করে তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। যারা কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যায় অথবা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ছোলা খাওয়ার পরে গ্যাস্টিকের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ছোলা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৩. মুখি কচু :

অনেকেই মুখী কচুর তরকারি খেতে পছন্দ করে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি উপকারী নয়। এটি পেটের সমস্যার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই মুখী কচুর তরকারি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।

গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যে খুব বেশি কঠিন তা কিন্তু নয়। খাওয়া-দাওয়ার প্রতি একটু নজর দিলেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করা সম্ভব। উপরে উল্লেখিত নিয়ম গুলো মেনে চললে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কেটে উঠতে সহজ হবে। আপনাকে আর ভুগতে হবে না গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কিনতে হবে না ওষুধ।