স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

ডেঙ্গু রোগের কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের পোস্টে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ডেঙ্গু রোগের কারণ ও ডেঙ্গু রোগে ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে। আমরা অনেকেই আছি যারা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে এখনো জানি না। আর তাই আজকে শুধুমাত্র তাদের জন্য তৈরি করেছি আমাদের এই পোস্টটি। আজ আমরা আমাদের এই পোস্টে ডেঙ্গু রোগের কারণ, ডেঙ্গুর লক্ষণ, ডেঙ্গু রোগে কি খাবেন, ডেঙ্গু রোগীকে কি ঔষুধ খাওয়াবেন, ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করবো।

চলুন আর দেরি না করে জেনে নিই ডেঙ্গু রোগের কারণ, ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ, ডেঙ্গু রোগে কি খাবেন, ডেঙ্গু হলে কি ঔষুধ খাওয়াবেন, ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার।

সূচিপত্রঃ ডেঙ্গু রোগের কারণ ও ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার

ডেঙ্গু রোগের কারণ

ডেঙ্গুর লক্ষণ 

ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে

ডেঙ্গু হলে কি খাবেন

ডেঙ্গু রোগীকে কি ঔষুধ খাওয়াবেন

ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার

ডেঙ্গু রোগের কারণ

ডেঙ্গু রোগের কারণ

ডেঙ্গু রোগ একটি মশাবাহিত ভাইরাল সংক্রমণ। এটি বিশ্বের গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সাধারণ। এডিস প্রজাতির স্ত্রী মশার কামড়ে এটি হয়ে থাকে। এটি তখনই ঘটে যখন মশা একটি সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড় দেয় এবং তারপর ভাইরাস বহন করার সময় একটি অ-সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড় দেয়।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

ডেঙ্গুর লক্ষণ 

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণগুলো হলো:

১. মাত্রাতিরিক্ত জ্বালা

২. প্রচন্ড মাথাব্যথা

৩. বমি বমি ভাব ও বমি করা

৪. ক্ষুধা কমে যাওয়া

৫. শরীরে শীতলতা অনুভব করা

৬. শরীর ম্যাজম্যাজ করা 

৭.চোখের পেছনে ব্যথা

৮. নিচের পিঠে ব্যথা, পেশি ব্যথা 

৯. হাড়ের সংযোগস্থানে ব্যথা 

১০. ফুসকুড়ি, ক্লান্তি, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং 

১১. ত্বক-চোখ লাল হওয়া।

১২. নাক ও মাড়ি থেকে রক্তপাত

১৩. শ্বাস নিতে অসুবিধা 

১৪. বমি, প্রস্রাব ও মলে রক্ত

১৫. পেটে প্রচন্ড ব্যথা

ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে

ডেঙ্গু জ্বর কত দিন থাকে

এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এর ব্যাতিক্রম পারে। সাধারনত এই জ্বর এমনিতেই সেরে যায়। তবে অবহেলা করা যাবে না এবং ডেঙ্গু জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু রোগে কি খাবেন

ডেঙ্গু হলে কি খাবেন

ডেঙ্গু রোগীকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন: ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন ইত্যাদি। 

ডেঙ্গু রোগীকে কোন ঔষুধ খাওয়ানো যাবে

ডেঙ্গু রোগীকে কি ঔষুধ খাওয়াবেন

ডেঙ্গু রোগ হলে প্যারাসিটামল খাওয়ানো যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট ও কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষুধ খাওয়া যাবে না। এসময় অ্যাসপিরিন 

জাতীয় ঔষুধ গ্রহন করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার

ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার

কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগকে কাবু করা সম্ভব। যেমন- 

১. বিশ্রাম ও পানি 

বিশ্রাম নিন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন অথবা তরল জাতীয় খাবার খান। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মাথাব্যথা ও পেশি ব্যথা কম হবে।

২.পেঁপে পাতার রস 

প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে পেঁপে পাতার রস পান করুন, কারণ ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট কমে যায়। পেঁপে পাতার রস সংক্রমণ তাড়ানোর ক্ষমতাও বাড়াতে পারে।

৩.পেয়ারার শরবত

পেয়ারার শরবত পান করুন। এই পানীয়ের ভিটামিন সি রোগদমনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে ডেঙ্গু সংক্রমণ উপশম করবে।

৪.মেথি বীজ

এক মগ গরম পানিতে মেথি বীজ ভিজিয়ে পানীয়টি ঠান্ডা করে পান করুন। এতে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে ও রোগ উপশমের ক্ষমতা বাড়বে।

৫.নিম পাতার রস

রক্তের প্লাটিলেট বাড়াতে নিম পাতার রসও পান করতে পারেন। এটি শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যাও বৃদ্ধি করে। নিম পাতার রোগদমন ক্ষমতা বর্ধক শক্তিও আছে।

৬.তুলসি পাতা

তুলসি পাতাকে গোল মরিচের সঙ্গে পানিতে সিদ্ধ করে পানীয়টিকে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালো লড়াই করতে পারে। তুলসি পাতা চাবালেও রোগদমনতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

৭.পুদিনা পাতা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুদিনা পাতার রসও বেশ কার্যকর। এটি সংক্রমণের জ্বর কমাতে পারে, রোগদমনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এবং প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে পারে।

৮.বার্লি চা

ডেঙ্গু উপশমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো বার্লি চা। এটি ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, ফোলেট, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড ও মিনারেলে সমৃদ্ধ। এসবকিছু রক্তের প্লাটিলেট ও লোহিত রক্তকণিকা বাড়াতে একত্রে কাজ করে।

৯.ডাবের পানি

ডেঙ্গু হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ডাবে রয়েছে ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি পূরণের সব উপাদান। তাই এ সময় বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

১০.পালংশাক

পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতিদ্রুত প্লাটিলেট বৃদ্ধি পায়।

১১.ডালিম

ডালিম পুষ্টি ও খনিজ সমৃদ্ধ ফল। এটি শরীরের ক্লান্তিভাব কমায়। ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা রক্তের জন্য উপকারী। এ ছাড়াও ডালিম প্লাটিলেট কাউন্ট বজায় রাখতে সাহায্য করে।

১২.কমলা

কমলা ও অন্যান্য ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল ডেঙ্গু রোগে জন্য অত্যন্ত উপকারী। কমলায় ভিটামিন-সি ছাড়াও রয়েছে এন্টি এক্সিডেন্ট, যা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্য করে।

১৩.হলুদ

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে হলুদ একটি উপকারী খাদ্য উপকরণ। ১ গ্লাস দুধের সঙ্গে ১ চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করবে।

শেষ কথাঃ বন্ধুরা, উপরে এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ডেঙ্গু রোগের কারণ, ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ, ডেঙ্গু রোগে কি খাবেন, ডেঙ্গু রোগীকে কি ঔষুধ খাওয়াবেন, ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এবং আপনারা উপকৃত হবেন। এই ধরনের আরও নতুন পোস্ট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন, ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *