স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

পেট ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

পেট ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

প্রিয় পাঠক, আসসালামু আলাইকুম। এই পোস্টে আমরা পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। কমবেশি সবারই খুব পরিচিত ও সাধারণ সমস্যা হচ্ছে পেটের ব্যথা। এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। এটি হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এখন আমরা পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়- এ বিষয়ে জানবো।

আপনি যদি পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। চলুন দেরি না করে পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায় সম্পর্কে জেনে নিই।

সূচিপত্রঃ পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

পেটে ব্যথার কারণ

পেটে ব্যথার কারণ

নানা কারণেই হতে পারে পেটে ব্যথা। এক এক কারণে ব্যথা এক এক জায়গায় হয়। তাই কোন কারণে পেটে ব্যথার ধরন কেমন হয়, তা জেনে নেওয়া জরুরি-

১.পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় পেটে ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে এই ব্যথা পেটের উপরে মাঝখান দিয়ে শুরু হয়। পেটে কখনও চিনচিনে, কখনও বুক জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা হয়।

এর সঙ্গেই থাকে টক ঢেঁকুর, বমি ভাব। অনেক সময়ে খুব ঘাম হতে পারে।

২.অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের জন্য ব্যথা হলে তা হবে পেটের উপরে খানিক বাঁ দিক ঘেঁষে। এই ব্যথা খুবই তীব্র হয়, আর পিছন দিকেও অনুভূত হতে পারে। এর সঙ্গে বমি ভাবও থাকতে পারে।

৩.কিডনিতে পাথর বা কোন সংক্রমণের কারণেও পেটে ব্যথা হয়। সেক্ষেত্রে ব্যথা হয়, যে কিডনিতে ব্যথা হয়েছে সেই কিডনির দিকের পেটের উপরের অংশে আর পিছন দিকে। ব্যথাটা ক্রমেই নামে তলপেটের দিকে। এই ব্যথা খুবই তীব্র হয়, আর মাঝে মাঝে ব্যথা ছাড়ে, আবার শুরু হয়। তার সঙ্গে বমি ভাব আর জ্বর আসতে পারে।

৪.পেটে খুব ব্যথা করে যদি অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়ে থাকে তাহলে। এ ক্ষেত্রে নাভির মাঝখান থেকে ব্যথা তলপেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আপনি যদি হাত দিয়ে টেপেন তাহলে তীব্র চিনচিনে ব্যথা অনুভব করবেন।

৫.পিত্তথলিতে পাথর থাকলে বা প্রদাহ হলে পেটে ব্যথা শুরু হয়। এই ব্যথা পেটের ডান দিকে আর পিছন দিকে ছড়ায়। এর সঙ্গে প্রচণ্ড বমি ভাব হতে পারে। পেটে চিনচিন করে ব্যথা, সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, জণ্ডিস আর খাবারে অরুচি হল এই ক্ষেত্রে প্রধান উপসর্গ।

৬.মেয়েদের ক্ষেত্রে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের নানা সমস্যা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রেও কিন্তু খুবই পেটে ব্যথা করে। তখন তলপেটের ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া হতে পারে। সঙ্গে আসতে পারে হালকা জ্বর।

৭.যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে তো পেট ব্যথার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এক্ষেত্রে পেটজুড়েই ব্যথা, আর পেট অনেকক্ষণ ভার ভার মনে হয়। কিছু করেই শান্তি মেলে না।

৮.যদি কোনও ভাবে ফুড পয়জনিং বা বদহজম হয়, তার থেকেও পেট ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। আর সাধারণ আমাশয় হলে তো তলপেটে নাভির কাছে তীব্র চিনচিনে ব্যথার কথা আমরা সবাই জানি।

৯.অন্ত্রে ক্যানসার হলেও খুবই পেটে ব্যথা হয়। এর সঙ্গে ওজন হ্রাস, রক্তশূন্যতা, দুর্বলতা তো থাকেই। আপনি খুব ঘেমে যেতে পারেন।

পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

পেটে ব্যথা আমাদের কমবেশি সকলেরই হয়ে থাকে। সুস্থ মানুষেরও হঠাৎ করে পেটে ব্যথা হয়ে থাকে। পেটে ব্যথা খুবই একটি যন্ত্রনাদায়ক ব্যাপার। তবে বেশির ভাগ পেট ব্যথাই গুরুত্বর নয়, দ্রুত আসে আবার দ্রুত চলে যায়। কিন্তু আমরা আসলে জানি না পেটে ব্যথা কমানোর উপায়।

এখন চলুন জেনে নেই প্রাকৃতিক উপায়ে বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেটে ব্যথা কমানোর কৌশলগুলো।

ঘরোয়া ভাবে পেটে ব্যথা কমানোর উপায়

হিটিং প্যাড

পেটের ব্যথা কমাতে হিডিং প্যাড খুবই ভাল কাজ করে। একটি গরম পানির ব্যাগ বা বোতলে হালকা গরম পানি নিয়ে পেটে ধরে রাখলে আপনার পেট ব্যথা কমে যাবে। পাশাপাশি আপনার বমি বমি ভাব থাকলেও তা হলে যাবে। দ্রুত পেটের ব্যথা কমানোর এটি একটি কার্যকারী উপায়।

আদা বা আদা চা

প্রাচীনকাল থেকে দেখে আসছি পেটের ব্যথা কমাতে আদা বা আদার চা খেয়ে আসছি। ছোট বেলায় যখন পেটে ব্যথা করতো তখন আদা চিবুতে দিতো এবং দেখা যেতো কিছুক্ষনের মধ্যে পেটের ব্যথা চলে গেছে। পাশাপাশি বমি বমি ভাব থাকলেও চলে যেত। আপনি যদি দ্রুত পেটের ব্যথা কমাতে চান তাহলে আদা চা বা আদা কেটে চিবিয়ে খেতে পারেন।

পুদিনা পাতা

পেটে ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে এটি অন্যতম। আমরা জানি যে পুদিনা পাতা অনেক গুনাগন আছে। পেটে ব্যথা ও বমি ভাব কমাতে পুদিনা পাতা খুবই ভাল কাজ করে। যখন আপনার পেটে ব্যথা করবে তখন পুদিনা পাতা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন বা চিবিয়েও খেতে পারেন দেখবেন পেট ব্যথা কমে যাচ্ছে।

কলা ও আপেল

পেটে ব্যথা কমাতে আপনি কলা বা আপেল খেতে পারেন। কারন কলা বা আপেলে প্রচুল পরিমানে ফাইবার থাকে যা পেটে ব্যথা সারাতে সাহায্য করে।

ভাত

বিষয়টা শুনে অবাক হবেন যে পেটে ব্যথা কমাতে ভাতের গুরুত্ব অন্যতম। কারন ভাতের মধ্যে কোন মসলা নেই তাই ভাত পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পেটে ব্যথা কমানোর জন্য সাদা নরম ভাত খেতে পারেন।

টোস্ট

টোস্ট বিস্কুট বা ওভারকুক করা রুটি পেট ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া টোস্ট বিস্কুটে তেমন কোন তেল থাকে না। পোড়া রুটি বা টোস্ট বমি ভাব কমাতেও সহায়তা করে।

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার

পেটের সমস্যার সমাধানের জন্য এটি গুবই উপকারী একটি উপায়। এর জন্য এক কাপ পানিতে এক চামুচ অ্যাপল সিডার ভিনেগার ও এক চামুচ মধু মিশিয়ে পান ক

এছাড়াও পেটে ব্যথা হলে করণীয় আরো কিছু উপায় আছে

ক. হজম সমস্যা জন্য আদা কেটে তার সাথে লেবুর রসে লবন মিশিয়ে ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষন। এরপর এই আদা রোদে শুকিয়ে নিন। প্রতিবেলা খাবার পর এই আদা খেলে পেটে ব্যথা দূর হবে চিরকালের মতো।

খ. অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের ব্যথার জন্য ২০টি কিশমিশ ১ গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে কিশমিশগুলো খালি পেটে খেয়ে নিন উপাকার পাবেন।

গ. ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রি জনিত ব্যথার জন্য ১ কাপ পরিমাণে বেদানার রস প্রতিদিন ২ বার পান করুন। এতে পেটের ব্যথা দূর হবে।

ঘ. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার কারণে পেটে ব্যথার সমস্যায় ১ চা চামচ ত্রিফলা কুসুম গরম পানিতে মিলিয়ে প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে পান করুন। পেটের ব্যথা কমাতে খুবই কার্যকারী।

ঙ. মাসিক জনিত পেটে ব্যথার জন্য ২ চা চামচ তুলসি পাতার রস ১ কাপ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ৩ বার পান করুন। বেশ ভালো উপশম হবে।

পেট ব্যথা কখন ঝুঁকিপূর্ণ

পেট ব্যথা কখন ঝুঁকিপূর্ণ

শুধু পেটের ব্যথা নয়, যেকোনো ব্যথায়, বিশেষ করে পেট ও বুকের কথা বলছি, সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিন্তা করতে হবে আমার এর সাথে আর কী কী রয়েছে। আমার শরীরটা ঘেমে গেল আমি অস্থির হয়ে গেলাম, দুর্বল হয়ে গেলাম। অথবা আমার পেট ব্যথা রয়েছে। এর সাথে আমার জ্বর আসছে। অথবা এর সাথে পাতলা পায়খানা হয়েছে। এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। এগুলো দিয়ে আমরা বুঝব এটি সাধারণ নয়। যখন তাদের এই অবস্থা হচ্ছে তখন দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকরাও কিন্তু প্রথম পর্যায়ে জানবে না তার কী হয়েছে। তখন তাকে পর্যালোচনা করবে। তার বয়স দেখবে, তার ইতিহাস নেবে, তার কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাবে। তার শারীরিক পরীক্ষা করাবে। এরপর ধরা হবে তার কী কারণে পেট ব্যথা হয়েছে।

হয়তো তরুণ একটি মেয়ে এসেছে, তার হয়তো দুই তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছে, সে ভালোই আছে। হঠাৎ করে সে প্রচুর তলপেটে ব্যথা নিয়ে এলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে পড়ে গেল। এখন সে যদি সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে না আসে কী হতে পারে? চিকিৎসকের কাছে আসার পর দেখা গেল তার রক্তচাপ কমে গেছে এবং সে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। ইতিহাস নিয়ে দেখা গেল, তার গত মাসে ঋতুস্রাব হয়নি। তার মানে তার পেটে টিউমার হয়েছে সেটি ফেটে গিয়ে হয়তো পেটের মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে, পেট ব্যথা করছে।

জরুরি অবস্থা তখনই বুঝতে পারবে যখন তার পেট ব্যথা হলো সাথে তার আরো অনেক লক্ষণ বা সমস্যা হলো। আসলে একটি ব্যথার সাথে আরো যেই শারীরিক বিষয়গুলো হচ্ছে সেগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা

খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা

খাওয়ার পর পরই অনেকের পেট ব্যথা অনুভব হয়। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেনে নেওয়া যাক কিছু কারণ-

অতিরিক্ত খাওয়া:

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খাওয়ার পর পেট ব্যথার কারণ অতিরিক্ত আহার গ্রহণ করা। অতিরিক্ত খেলেই পেট ব্যথা শুরু হয়। আমাদের পাকস্থলী কেবল এক থেকে দুই কাপ খাবার ধারণ করতে পারে। এর বেশি খেলে বাড়তি জায়গা তৈরি করতে গিয়ে পেটে অস্বস্তি দেখা দেয় এবং ব্যথাও হতে পারে।

খাবার খুব দ্রুত খেলে:

খাওয়ার পর পেট ব্যথার আরেকটি সাধারণ কারণ খুব দ্রুত খাওয়া। গপাগপ গিলতে গিয়ে খাবারের সঙ্গে পেটে বাতাসও ঢুকে যায়। পাকস্থলীতে বাড়তি খাবার পৌঁছার পর বমি ভাব এবং অম্বল দেখা দেয়। এমনকি পেট বড় দেখায় এবং অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। এছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ পুষ্টি শোষণ করতে পারে না।

বদহজম:

অতিরিক্ত কফি, অ্যালকোহল, মসলাদার খাবার এবং টক জাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম হতে পারে। এর মানে এই খাবারগুলো অন্যান্য খাবার হজম করতে এবং গ্লুকোজে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে।

এর ফলে পেট ফোলা ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

পিত্তাশয় পাথর:

লিভার থেকে নিঃসৃত পিত্তরস খাবার হজম করতে সাহায্য করে৷ পিত্তরসের ভেতর জল ও ফ্যাটের পরিমাণের অসামঞ্জস্যতাই গলস্টোন সৃষ্টির মূল কারণ। এই গলস্টোনের কারণে আহার বিশেষ করে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের পর পেট ব্যথা হতে পারে।

ফুড ইনটলারেন্স:

অনেক সময় নির্দিষ্ট খাবারের কিছু অংশ শরীর গ্রহণ করতে পারে না। এই কারণে শরীরে তৈরি হয় নানা ধরনের উপসর্গ। এক্ষেত্রে পেটে ব্যথা হল অন্যতম উপসর্গ (Symptoms)। তবে পেট ব্যথা ছাড়াও এক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে পাতলা পায়খান, বমি, বমিবমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, আটা ইত্যাদি খাবারে এই উপসর্গ দেখা দেয়।

খাবার অসহনীয় হয়ে ওঠা:

পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া এবং বমি খাদ্য সহ্য না হওয়ার লক্ষণ। এই সমস্যার ফলে কিছু উপাদান শরীর হজম করতে পারে না, যা পেট সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার কারণ। এ জন্য অবশ্যই সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

পেট ব্যথা কমানোর দোয়াঃ

পেট ব্যথা কমানোর দোয়া

উসমান ইবনে আবুল আস আস-সাকাফি (রা.)-এর ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে, তিনি একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে পেটের ব্যথার কথা জানান। তিনি বলেন, ব্যথা আমাকে অস্থির করে তুলেছে। তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার ব্যথার স্থানে ডান হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ বোলো। এরপর সাতবার বোলো-

أعوذُ باللهِ و قُدرتِه من شرِّ ما أَجِدُ و أُحاذِرُ

উচ্চারণ : ‘আউজু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।’

অর্থ : আল্লাহর মর্যাদা ও তার কুদরতের উসিলায় আমি যা অনুভব এবং ভোগ করছি, তা থেকে মুক্তি চাচ্ছি।

উসমান (রা.) বলেন,

‘আমি এই রূপ করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ আমার কষ্ট দূর করে দেন। এরপর থেকে আমি পরিবার-পরিজন ও অন্যদের এরকম করার নির্দেশ দেই।’

হঠাৎ পেট ব্যথা হলে করনীয়

হঠাৎ পেট ব্যথা হলে করনীয়

আদা

বমি ভাব আর পেটে ব্যথা কমাতে আদা খেতে পারেন। শরীরের সব রকম প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে আদা। রান্না করা, কাঁচা বা চায়ে দেওয়া, যেমন ভাবে ইচ্ছা খেতে পারেন আদা।

ক্যামোমিল চা

বদহজম, বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথাসহ নানা ধরনের অসুখ নিরাময়ে কাজ করে ক্যামোমিল চা। ক্যামোমিলের ভেষজের গুণ নিয়ে খুব বেশি গবেষণা এখনও পর্যন্ত না হলেও এর নানা রকম উপকারিতার কথা অনেকেই জানেন। তাই পেটে ব্যথা কমাতে ক্যামোমিল চায়ের উপর ভরসা করতে পারেন।

পুদিনা পাতা

পুদিনার পাতার চা-ও পেটে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হজমজনিত সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, বদহজমজনিত সমস্যায় পেট ব্যথা হলে পুদিনা পাতা তা কমাতে সাহায্য করে।

কাঁচাকলা

কাঁচকলা সিদ্ধ করে খেলেও তা পেটে ব্যথা এবং পেটের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। কাঁচাকলায় ভিটামিন বি ৬, ফোলেট এবং পটাশিয়াম থাকে। শরীরে কোনও পেশিতে টান লাগলে, ব্যথা হলে বা ক্র্যাম্প হলে তা কমাতে সাহায্য করে এসব খনিজ।

দই

শরীরে ডিসবায়োসিস হলে মানে পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে সমস্যা হলেও পেট ব্যথা হতে পারে। তাই দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খেলে তা এই ভারসাম্য বজায় রেখে পেটে ব্যথা কম করতে পারে।

পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হলে করনীয়

পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হলে করনীয়

সেঁক নিন

গরম সেঁক নিন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর প্রচলিত কিছু ঔষধের চেয়ে গরম সেঁক বেশি কিংবা সমানভাবে কার্যকর। গরম সেঁক প্যারাসিটামলের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং আইবুপ্রোফেনের সমান কার্যকর। সেই সাথে গরম সেঁকের আরেকটা সুবিধা হলো এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

যেভাবে সেঁক দিবেন: একটি ‘হট ওয়াটার ব্যাগ’ তোয়ালে অথবা মোটা গামছা দিয়ে মুড়িয়ে পেটের ওপর রাখতে পারেন। হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন। যেমন—

সহনীয় তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে

মুখ ভালোভাবে আটকানো আছে কি না দেখে নিতে হবে

একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর ব্যাগ উল্টেপাল্টে দিতে হবে

‘হট ওয়াটার ব্যাগ’ এর পরিবর্তে ‘ইলেকট্রিক হিটিং প্যাড’ সহ অন্যান্য উপায়ে সেঁক নেওয়া যেতে পারে।

আদা সেবন করুন

আদা পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে। যারা নিয়মিত পিরিয়ডের ব্যথায় ভুগেন, তারা পিরিয়ডের ব্যথা শুরু হওয়ার আগেই আদা খাওয়া শুরু করতে পারেন। আদা কুচি করে এমনি এমনি খেতে পারেন অথবা গরম পানি অথবা চায়ের সাথে মিশিয়ে পান করতে পারেন। মাসিকের প্রথম ৩–৪ দিন দৈনিক তিনবেলা করে এভাবে আদা কুচি খেতে পারেন।

শ্বাসের ব্যায়াম করুন

পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর একটি ভালো উপায় হলো শ্বাসের ব্যায়াম করা। যেভাবে শ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে—

বুকের ওপরে এক হাত আর পেটের ওপরে আরেক হাত রাখুন

নাক দিয়ে বড় করে শ্বাস নিন। এমনভাবে শ্বাস নিতে হবে যেন বাতাস বুকের গভীরে ঢোকে এবং পেট ফুলে ওঠে। এভাবে শ্বাস নিলে পেটের ওপরের হাতটা ওপরে উঠে আসবে।

তারপর মুখ দিয়ে এমনভাবে শ্বাস ছাড়ুন যেন মনে হয় একটি মোমবাতি নেভানো হচ্ছে।

শ্বাস ছাড়ার পর পেটে রাখা হাত আবার আগের জায়গায় ফেরত আসবে

ব্যায়াম করুন

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা যেকোনো উপায়ে শরীর সচল রাখলে পিরিয়ডের ব্যথা অনেকখানি কমে আসতে পারে।[৬] এজন্য সপ্তাহে ৩ দিন বা তার বেশি ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা করে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। আপনি চাইলে ভারী ব্যায়াম ছাড়াও সাঁতার কাটা, হাঁটা, সাইকেল চালানো ও ইয়োগার মতো হালকা ব্যায়াম বেছে নিতে পারেন।

পিরিয়ডের সময়ে ব্যথার কারণে ব্যায়াম করার ইচ্ছা না-ই থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে হাঁটাচলার মতো হালকা ব্যায়াম করুন।

পেট ম্যাসাজ করুন

তলপেট ও এর আশেপাশে আলতোভাবে ম্যাসাজ করলে সেটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রিল্যাক্স করুন

মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন ব্যথা ও অস্বস্তির অনুভূতি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে পিরিয়ডের ব্যথা কমানো যায়। এটি আপনাকে রিল্যাক্স করতেও সাহায্য করবে।

পেগনেন্ট অবস্থায় পেট ব্যথা হলে করনীয়

পেগনেন্ট অবস্থায় পেট ব্যথা হলে করনীয়

গর্ভবতী মহিলারা যদি পেটের মধ্যে হালকা ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে এই প্রতিকারমূলক চিকিৎসার চেষ্টা করতে পারেন।

  1. কিছু সময় বিশ্রাম নিলে, তাৎক্ষণিক ব্যথার উপশম হতে পারে।
  2. উষ্ণ গরম জলে স্নান করলে তলপেটে ব্যথা এবং খিঁচুনি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
  3. উষ্ণ গরম জলের ব্যাগ ব্যথা স্থানে ধরে রাখলে, ব্যথার হ্রাস পেতে পারে।
  4. কোমর তীক্ষ্ণভাবে বাঁকাতে হয় এমন কাজ করা থেকে দূরে থাকুন ।
  5. সারা দিনে প্রচুর পরিমাণে জল খান।
  6. অল্প করে বারে বারে খাবার খান। ফল এবং সবজির মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য খান।
  7. প্রস্রাব কখনো ধরে রাখবেন না এবং আপনার মূত্রাশয় নিয়মিত খালি করুন।

শেষ কথাঃ আপনারা যারা পেটে ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায় সম্পর্কে জানতে চান তারা আমাদের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে পেট ব্যথা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন। আমরা আমাদের পোস্টে পেটে ব্যথার কারণ, পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়,পেট ব্যথা কখন ঝুঁকিপূর্ণ, পেট ব্যথা কমানোর ঔষুধ, খাবার খাওয়ার পর পেটে ব্যথা, পেট ব্যথা কমানোর দোয়া,হঠাৎ পেট ব্যথা হলে করনীয়, পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা হলে করনীয়, পেগনেন্ট অবস্থায় পেট ব্যথা হলে করনীয়,ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেট ব্যথা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি আমাদের পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং আপনারা উপকৃত হবেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই ধরনের আরও নতুন নতুন পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করুন।

2 Replies to “পেট ব্যথার কারণ ও পেটে ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *