স্বাস্থ্য ও সচেতনতা

বদহজম কি? জেনে রাখুন বদহজম থেকে বাঁচার ১১টি ঘরোয়া পদ্ধতি

বদহজম কি জেনে রাখুন বদহজম থেকে বাঁচার ১১টি ঘরোয়া পদ্ধতি

বদহজম কি

অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অনেক সময় বদহজম হয়। অতিরিক্ত তেল- মশলাযুক্ত, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার খাওয়া কিংবা অসময়ে খাবার খেলে দেখা দিতে পারে বদহজম। তাই বদহজম থেকে বাঁচতে বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। আবার তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ব্যাকটেরিয়াও বৃদ্ধি পায়। তাই গরম বেশি পড়লে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়েও হজমে সমস্যা হতে পারে।

বদহজমের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো

বদহজমের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো

বদহজমের লক্ষণ হলো বুক জ্বালা, তলপেটে অস্বস্তি, শরীর ফোলা লাগা, গা গোলানো বা বমি ভাব, মুখের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, একনাগাড়ে ঢেকুর বা হেঁচকি উঠা। উপসর্গ গুলো সাধারণত খাবার পর বেশি কষ্ট দেয়, বিশেষ করে যখন কোনো মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থাকে।

বদহজম থেকে মুক্তি পাওয়ার ১১ টি ঘরোয়া প্রতিকার

১. খাবার খাওয়া

খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। খাবার খাবেন ধীরে ধীরে এবং অবশ্যই চাবাবেন। খাবার চিবিয়ে না খেলে শরীরের ভেতর বাতাস ঢুকে গ্যাস বৃদ্ধি ও পেট ফাঁপা হতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নিন। কারণ ঘুমের সময় খাবার ভালোভাবে হজম হয় না।

বদহজম থেকে মুক্তি পাওয়ার ১১ টি ঘরোয়া প্রতিকার

২. পানি পান

খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করবেন। আবার খাওয়া শেষে একটু সময় পর পানি পান করবেন।কারণ, খাওয়ার সময় এবং মাঝখানে পানি পান করলে পাকস্থলীর অ্যাসিড দুর্বল হয়ে যায় এবং ভালোভাবে খাবার ভাঙতে পারে না। ফলে বদহজম হয়।

৩. আদা পানি

আদা খুবই উপকারী একটি মসলা। পেটের সমস্যা দূর করতে আদা খুবই কার্যকরী। তাই বদহজম দূর করতে আদাপানি খেতে পারেন। আদাপানি তৈরি করার জন্য চার গ্লাস পানির সঙ্গে দেড় টেবিল চামচ আদা কুঁচি মিশিয়ে ফোটাতে হবে। তারপর মিশ্রণটি ছেঁকে আদা কুচি ফেলে দিয়ে, ঠাণ্ডা করে পান করুন।

৪. ক্যামোমাইল

বদহজমের চিকিৎসা হিসেবে অনেক আগে থেকেই ক্যামোমাইলের ব্যবহার করে আসছে। এটি পাকস্থলী ও আন্ত্রিক নালিকে প্রশান্ত করতে পারে। দিনে তিন-চার কাপ ক্যামোমাইল চা পান করে দেখতে পারেন। দেখবেন আপনার বদহজম কমে যাবে।

৫. আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার পেটের এসিড ও বুক জ্বালা সমস্যা অনেকটা দূর করতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রাও কমে। এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার আধ মগ পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। যাদের পেটপুরে খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাদের বদহজম দূরীকরণে আপেল সিডার ভিনেগার বিশেষ কার্যকর।

৬.বেকিং সোডা

এক মগ পানিতে এক চা- চামচ বেকিং সোডা নাড়ুন এবং পান করুন। এই দ্রবণ পাকস্থলীর এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ও পেটফাঁপা কমায়। এই দ্রবণের কার্যকারীতা বাড়াতে কয়েক ফোটা লেবুর রস মিশাতে পারেন। ৭.ফলের রস ফলের রসের ফ্রুকটোজ পেট ব্যথা ও গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এটি হজম না হয়ে কোলনে যায়। তাই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধে খাবার খাওয়ার পর ফলের রস পান করুন।

৮. পুদিনাপাতার পানি

পুদিনা বদহজম, আন্ত্রিক পেশি সংকোচন এবং বমি ভাব প্রশমিত করে। বদহজম দূর করতে দিনে দুই-তিন বার পুদিনার চা পান করুন। পুদিনার চা তৈরী করতে এক মগ পানিতে দেড় চা চামচ শুষ্ক পুদিনা পাতা ফুটিয়ে নিন। তারপর গরম বা ঠাণ্ডা অবস্থায় পান করুন। বুক জ্বালা থাকলে পুদিনা সুপারিশকৃত নয়।

৯. ধনেপাতার পানি

ধনেপাতা শুধু খাবারের স্বাদ আর গন্ধ বাড়াতেই কাজ করে না, এটি পেট ঠাণ্ডা রাখতেও সাহায্য করে। এই পাতা পেটের ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও সাহায্য করে। ধনেপাতা পরিষ্কার করে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ধনে পাতাগুলো তুলে পানিটুকু পান করুন। এতে বদহজম সহজেই দূর হয়ে যায়।

১০. মৌরি বীজ

বদহজম তাড়ানোর আরেকটি কার্যকরী উপায় হলো মৌরি বীজ চাবানো। এই বীজ থেকে নিঃসরিত তেল অন্ত্রের পেশি সংকোচন, বদহজম, বমি ভাব ও গ্যাস কমাতে পারে। দুই-তিন চা-চামচ মৌরি বীজের গুঁড়া দিয়ে চা তৈরী করুন এবং পান করুন।

১১.এলাচ

বদহজম দূর করতে এলাচ চিবিয়ে খাওয়া খুবই উপকারী। বদহজম হলেই যে সব খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিবেন, তা কিন্তু ঠিক নয়।

উপরের এ কয়টি ঘরোয়া পদ্ধতি বদহজম থেকে আপনাকে দ্রুত আরাম দিবে। তাই উপরের পদ্ধতি গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

One Reply to “বদহজম কি? জেনে রাখুন বদহজম থেকে বাঁচার ১১টি ঘরোয়া পদ্ধতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *