ক্ষতিকর রং দিয়ে কাঁচা আমের জিলাপি তৈরী, ভোক্তা অধিকারের অভিযান

ক্ষতিকর রং দিয়ে কাঁচা আমের জিলাপি তৈরী, ভোক্তা অধিকারের অভিযান

রাজশাহীতে কাঁচা আমের জিলাপিতে রং ও সুগন্ধি মিশানোর অভিযোগে এক দোকানিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজশাহী উপশহরের নিউ মার্কেট এলাকার ‘রসগোল্লা’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ বলেন, কাঁচা আমের জিলাপি বলে প্রচার করা হলেও আসলে এটা কাঁচা আমের না। কাঁচা আমের ফ্লেভারযুক্ত জিলাপি, যা এক ধরনের প্রতারণা।

তিনি বলেন, জিলাপির রং কখনও সবুজ হয় না। ফুড গ্রেড কালার ব্যবহার করে কাঁচা আমের জিলাপি বলা হচ্ছে। এই প্রতারণা বন্ধ করার জন্য ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রসগোল্লার উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, এখানে কাঁচা আম ব্লেন্ড করে দেয়া হয়। পাশাপাশি কালার ও ফ্লেভার আছে। জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক কোম্পানির সার্টিফিকেট আছে, এমন ফুড কালার ব্যবহার করি।

‘২০ রোজার মধ্যে বোনাস, ছুটির আগে দিতে হবে ১৫ দিনের বেতন’

‘২০ রোজার মধ্যে বোনাস, ছুটির আগে দিতে হবে ১৫ দিনের বেতন’

পোশাক কারখানার কর্মীসহ সব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ২০ রোজার মধ্যে বোনাস এবং ঈদের ছুটির আগে এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর বিজয় নগরের শ্রম ভবনে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভা শেষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, সব শ্রমিককে ২০ রোজার মধ্যে বেতন এবং ঈদের ছুটির আগে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের বেতন দিতে হবে মালিকদের।

প্রিজনভ্যানে ইশরাক, বাইরে নেতাকর্মীদের হামলা

প্রিজনভ্যানে ইশরাক, বাইরে নেতাকর্মীদের হামলা

পুরান ঢাকায় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে বহনকারী প্রিজনভ্যানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে সিএমএম আদালত সংলগ্ন রায়সাহেব বাজার মোড়ে প্রিজনভ্যানটিতে হামলা করেন ইশরাকের সমর্থকরা।

বুধবার (৬ এপ্রিল) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর দুপুর আড়াইটার দিকে ইশরাককে বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হামলার সময় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুর দুইটা ২০ মিনিটের দিকে ইশরাকের পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুপুর পৌনে একটার দিকে ইশরাককে সিএমএম আদালতের হাজতে রাখা হয়। ইশরাকের পক্ষে মাসুদ আহম্মেদ তালুকদারসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন শুনানি করেন।

এর আগে আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে বিএনপি নেতা ইশরাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মতিঝিল এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে এই মামলা করে পুলিশ। ওই দিন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা ১৮ আসনে উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে মিছিল থেকে সোনালী ব্যাংকের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন ইশরাক। সেই জামিনের মেয়াদ শেষে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন তিনি।

মহানগর দায়রা জজ সিএমএম আদালত থেকে নথি তলবপূর্বক জামিনের বিষয়ে ওই বছর ১৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। তবে নির্ধারিত দিনে ইশরাক আদালতে হাজির হননি। তার পক্ষে সময় আবেদন করা হয়। বিচারক সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানা অনুযায়ী ইশরাককে গ্রেপ্তার করা হয়। সুত্রঃ আরটিভি অনলাইন।

রাস্তায় বসে ইফতার করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

রাস্তায় বসে ইফতার করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

রাস্তায় বসে অসহায় মানুষদের সঙ্গে ইফতার করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সোমবার (৪ এপ্রিল) ইফতারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসের সামনে ইফতারের আয়োজন দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন তিনি।

এ সময় অসহায়, দুস্থ, নিম্ন আয়ের মানুষদের ইফতারের জন্য অপেক্ষা করতে দেখে নিজেও বসে পড়েন তাদের সঙ্গে। সবার জন্য ইফতারিতে শরবত, তেহারি, ফল, বিস্কুট ও খেজুর রাখা ছিল।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কাদের নিয়ে এই আয়োজন জানা ছিল না। কয়েকজন সাংবাদিক ফোন করে আসতে বলেছিলেন, তাই এসেছি। এসে দেখলাম অসাধারণ খাবার পরিবেশন।

তিনি বলেন, তরুণদের এমন উদ্যোগ খুবই ভালো দিক। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

এদিকে মন্ত্রীর ইফতারের একটি ছবি পোস্ট করেছেন ‘এক টাকায় আহার – 1 Taka Meal’ ফেসবুক পেজ।

ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটিতে বলা হয়, মাটিতে বসা মন্ত্রীকে পাশে পেয়ে রিকশাওয়ালা দুঃখের কথা বলতে ভুল করেনি। সারাদিন রিকশা চালিয়েও বাজার মেলাতে কষ্ট হয়। জিনিসপত্রের দাম বাড়তি, আপনি একটু দেখবেন প্লিজ।

ভিড়ের মধ্যে অনেক কিছুই বলেছে, পাশাপাশি অবাক হয়েছে তার সরলতা, সাধারণের সঙ্গে মেশার আচরণ। জানি বিদ্যানন্দের এই ছবিতেও কমেন্ট আসবে ‘লোক দেখানো’; কিন্তু কজন পারবেন এভাবে আসতে, সাধারণের সঙ্গে মিশে ইফতার করতে।

‘গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খালি রাস্তায় বসে মানুষের কষ্ট অনুভব থেকেই আরও সেরা উদ্যোগ উঠে আসবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস।

লিজ নেয়া জমি পেতে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে মাঠে মালিকরা

লিজ নেয়া জমি পেতে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে মাঠে মালিকরা

চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর পার হলেও টাকা ও জমি কোনোটাই ফেরত পাচ্ছেন না সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৃষকরা। সেখানে ৪০ বিঘা জমির ওপর জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান গড়েছিলেন কাকড়ার খামার। নাম দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম। এবার ৪০ বিঘা জমির অন্তত ১৬ জন মালিক টাকা ও জমি ফেরত পেতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় দাতিনাখালী এলাকায় সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্মের সামনে মানববন্ধন করেন জমির মালিকরা।

মানববন্ধনে জমির মালিকরা বলেন, ২০১৬ সালে ১২ হাজার টাকা বার্ষিক চুক্তিমূল্যে জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সগীর হোসেন পাভেল ও ব্যবসায়ী এমদাদের সঙ্গে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্মের নামে জমি লিজ দেন তারা; যার মেয়াদ ছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। চুক্তিপত্রের মেয়াদ দুই বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ের জন্য জমির মালিকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে জমিও ফেরত দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে ২০২০ সালেও জমির মালিকদের পূর্বের টাকা আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামতে হয়েছিল। সে সময় ফার্মের মূল ফটক থেকে সাকিব আল হাসানের নাম মুছে ফেলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি জমির মালিকদের অগোচরে অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। আমরা জমি ফেরত চাই।

অভিযোগের বিষয়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ব্যবসায়িক পার্টনার সগীর হোসেন পাভেল বলেন, দুই বছর আমরা ব্যবসায় ছিলাম না। তবুও তাদের টাকা দিয়েছি। এখন ব্যবসা আবার চালু হচ্ছে। এক বছরের টাকা তারা পাবেন, সেটিও দিয়ে দেওয়া হবে। তারা দুই বছর নয়, এক বছরের টাকা পাবেন। যদি কেউ দুই বছরে টাকা দাবি করে তবে সেটি ভিত্তিহীন।

প্রসঙ্গত, রপ্তানিমুখী কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য ২০১৬ সালে সুন্দরবন-সংলগ্ন দাতিনাখালীতে সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সগীর হোসেন পাভেল ও ব্যবসায়ী এমদাদ। প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ২০০ মানষের কর্মসংস্থান হতো। এর আগে ২০২০ সালে বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে বিসিবির হস্তক্ষেপে ও স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের মধ্যস্থতায় কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়। সুত্রঃ আরটিভি।

ডাক্তার বলেছে বাবা হতে পারবে না, দ্বিতীয় বিয়ের পর সন্তান হওয়ায় খুন

চুয়াডাঙ্গায় বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে আড়াই মাস বয়সী শিশু ইকবাল হোসেনকে হত্যার কথা বাবা ইখলাছ উদ্দিন স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে একই দিন সকালে বাদী হয়ে ইখলাছ উদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেছে শিশুটির মা মিতা খাতুন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান হয়নি ইখলাছ উদ্দিন ও তার প্রথম স্ত্রীর। তবে প্রায় ৪ বছর আগে মিতা খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মাঝেরপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ইখলাছ। পরে তাদের কোলজুড়ে আসে এক ছেলেসন্তান। এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মিতাকে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই ছেলে তার না বলে জানান ইখলাছ। বুধবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে বাড়ির কাজ করছিলেন মিতা। তখন ছেলেকে কোলে নেন ইখলাছ। পরে শিশু ইকবালের বাম পায়ে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করেন তিনি। এ সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ইকবালকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। সেখানে নেওয়ার পথে বিকেলে মারা যায় শিশুটি।

নিহত শিশুর মা মিতালী খাতুন বলেন, এর আগে আমার অন্য আর এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক কলহের কারণে বিচ্ছেদ হয়। সেই পক্ষের দুই ছেলেসন্তানও আছে, তারা নানাবাড়িতে থাকে। প্রথম স্ত্রীর কোনো সন্তান না হওয়ায় ৪ বছর আগে ইখলাছ আমাকে বিয়ে করেন। পরে আমাদের কোলজুড়ে আসে এক ছেলেসন্তান। তারপর থেকে সে আমাকে বিয়ে-বর্হিভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে একটি ওষুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে আমার ছেলে ইকবালকে হত্যার চেষ্টা করে সে। এ সময় দ্রুত হাসপাতালে নিলে রক্ষা পায় আমার ছেলে। পরে আমি বাবার বাড়ি চলে যাই এবং আমার ছেলেকে নিয়ে একা থাকার কথা বলি। কিন্তু ওই ধরনের কাজ আর করবে না বলে আমাদের ফিরিয়ে আনে ইখলাছ। বুধবার (৩০ মার্চ) সকালে ইনজেকশনের মধ্যে বিষ মিশিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করে সে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযুক্ত ইখলাছ উদ্দিন বলেন, শারীরিক সমস্যার কারণে সন্তানের বাবা হতে পারব না বলে জানান চিকিৎসক। মিতালীর সঙ্গে ফোনে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাকে বিয়ে করি। আড়াই মাস আগে সন্তান হলে আমার সন্দেহ হয়। ওই সন্তান আমার নয় বলে জানাই। ওই সন্তানকে অন্য কারও কাছে দেওয়ার জন্যও বলি। কিন্তু সে কোনো কথা না শুনলে আমি শিশু ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করি। বুধবার (৩০ মার্চ) সকালে ইনজেকশনের মধ্যে বিষ ঢুকিয়ে তার শরীরে পুশ করি। পরে মারা যায় সে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাবা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিষ মিশ্রিত ইনজেকশন পুশ করে শিশু ইকবালকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকালে বাদী হয়ে স্বামীর নামে মামলা করেন শিশুর মা মিতা খাতুন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হয়। সুত্রঃ আরটিভি অনলাইন।

চট্টগ্রাম কারাগারে যুবদল নেতার মৃত্যু

চট্টগ্রাম কারাগারে যুবদল নেতার মৃত্যু

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় মোহাম্মদ শাহজাহান (৪৩) নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাঁচলাইশ থানাধীন কুলাগাঁও বালুচরা এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার দেওয়ান মো. তারিকুল ইসলাম জানান, মোহাম্মদ শাহজাহান নামে একজন হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বায়েজিদ থানার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তিন মাস আগে কারাগারে আসেন। তিনি আগে থেকে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৬ মার্চ থেকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল তার অবস্থার অবনতি হলে দুপুর ১ টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী বলেন, শাহাজাহান যুবদলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। তিনি নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত দস্তগীর চৌধুরী ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে এক মেয়ের জনক ছিলেন। আজ বাদ মাগরিব বালুছড়া নিজ বাড়িস্থ ফেরদাউস চৌধুরী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে শাহজাহানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ করতে পেরে জাতীয় সংসদে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (৩০ মার্চ) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কাঁদেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারায় প্রধানমন্ত্রীকে তার আনন্দের স্মৃতি বর্ণনা করতে অনুরোধ করেন ফখরুল ইমাম। তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুই ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন, ভূমিহীন ও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। এটাই বন্ধবন্ধুর লক্ষ্য ছিল। আর সে লক্ষ্য পূরণ করাই প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র কাজ।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকেই ভূমিহীন মানুষদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছি এবং পুনর্বাসন করে যাচ্ছি। শুধু তাই নয়, আমরা শুরু তাদের ঘর দিয়ে বসে থাকছি না পাশাপাশি এসব মানুষদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভূমিহীন মানুষদের ঘর দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এর থেকে বড় আনন্দের কিছুই হতে পারে না। সেদিন আনন্দে অঝোরে কেঁদেছিলাম। কারণ, এটাই বাবার স্বপ্ন ছিল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি ঘর উপহার দিয়েছে সরকার। তৃতীয় পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৪৭৪টি ঘর দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জে ইন্টারনেট ডাটা কিনে না দেওয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যা

কিশোরগঞ্জে ইন্টারনেট ডাটা কিনে না দেওয়ায় গৃহবধূর আত্মহত্যা।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের সাধেরজঙ্গল এলাকায় মোবাইলে ইন্টারনেট ডাটা কিনে না দেওয়ায় স্বামীর সঙ্গে রাগ করে ফাঁস নিয়ে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

শুক্রবার (৪ মার্চ) রাত ১০টায় ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ পেয়ে রাতেই ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রিয়া আক্তার (২০) উপজেলার সাধেরজঙ্গল গ্রামের শাকিল মিয়ার স্ত্রী ও একই গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে।

জানা গেছে, শুক্রবার (৪ মার্চ) রাতে গৃহবধূ রিয়ার মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা স্বামী শাকিল মিয়া ব্যবহার করে শেষ করে ফেলেন। এ কারণে রিয়া তার স্বামী শাকিলকে ইন্টারনেট ডাটা কিনে দিতে বলেন। এ সময় শাকিল ইন্টারনেট ডাটা কিনে না দেওয়ায় রিয়া ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহতের স্বামী শাকিল মিয়া মিয়া বলেন, শুক্রবার (৪ মার্চ) রাতে মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা শেষ করায় আমাকে বলে নতুন ডাটা কিনে দিতে। এ সময় আমি বলেছি ডাটা কিনে দেব। এই কথা বলে আমি ঘর থেকে বের হয়ে গেলে রিয়া আত্মহত্যা করে।

জাফরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর জানান, শাকিল ও রিয়ার মধ্যে কোনো দাম্পত্য কলহ ছিল না। তবে অভিমানে এ ঘটনা ঘটেছে।

করিমগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনার পর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে এসে ফিরে গেলেন বর

হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে এসে ফিরে গেলেন বর

হেলিকপ্টারে বাল্যবিয়ে করতে গিয়ে ফিরে গেলেন বর। কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন বিয়ে বন্ধ করে দেয়। তাই কনে ছাড়াই ফিরে যেতে হয় বর শাহজালাল মিয়াকে (৩০)।

শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে আসায় সব আনুষ্ঠানিকতা পূর্বধলা জেএম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়।

বর শাহজালাল মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আলেক মিয়া।

কনে সোনিয়া আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের প্রবাসী বাবুল তালুকদার ও মা সুমী আক্তারের (দুবাই প্রবাসী) মেয়ে।

স্থানীয়রা বলেন, শাহজালাল মিয়ার সঙ্গে সোনিয়া আক্তারের বিয়ে পারিবারিকভাবে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কনে নবম শ্রেণির ছাত্রী হওয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপস্থিত হন প্রশাসনের লোকজন। পরে বর ও কনের কাগজপত্র যাচাই করে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।